আওয়ামী লীগ আমলে ক্রসফায়ারে নিহতদের তথ্য প্রকাশে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৩

আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচালিত তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা অন্যান্য অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কিত সরকারি তথ্য প্রকাশের জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে এসব তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে- ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ‘এনকাউন্টার’ বা অনুরূপ অভিযানে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী মোট কতজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।’

নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, পরিচয় এবং প্রতিটি ঘটনার তারিখ, সময় ও সুনির্দিষ্ট স্থান নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে নোটিশে বলা হয়, ‘কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কে নিহত হয়েছেন, সেই অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা এবং অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের নাম, পদবি ও কর্মস্থলের বিবরণ প্রকাশ করতে হবে।’

এছাড়া প্রতিটি ঘটনার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা বিভাগীয় তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও ফলাফল জানতে চেয়েছেন এই আইনজীবী।

তদন্তে কোনো হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে নোটিশে বলা হয়, ‘সরকারি তদন্ত বা বিচারিক অনুসন্ধানে কোনো ঘটনাকে বেআইনি বা বিচার-বহির্ভূত হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকলে, তার বিবরণ দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয়, প্রশাসনিক বা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তার বর্তমান অবস্থা এবং চূড়ান্ত ফলাফল জানাতে হবে।’

এসব ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে কোনো ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন বা সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, নোটিশে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত নীতিমালা বা সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বিবরণ চাওয়া হয়েছে।

নোটিশের শেষাংশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে এসব তথ্য সরবরাহ না করা হলে অথবা ‘আইনানুগ ও সন্তোষজনক জবাব’ না পেলে আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।

ইত্তেফাক/এনএ