ফ্লোরিডার পাম বিচ বিমানবন্দরের নতুন নাম ‘ট্রাম্প বিমানবন্দর’

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪০

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি-স্যান্টিস বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের এই সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেন।

এর ফলে প্রায় ৫০ বছর ধরে ‘পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নামে পরিচিত এই বিমানবন্দরটির নতুন নাম হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’।

নাম পরিবর্তনের খবরে ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, খুব শিগগিরই এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরে পরিণত করা হবে।

নাম বদলের পরদিনই ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প পরিবারের ব্যক্তিগত বোয়িং ৭৫৭ বিমান ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’ নিয়ে নতুন নামের বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরিক বলেন, পাম বিচের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে আর কারও সম্পর্ক এতটা গভীর নয়। পুরো ফ্লোরিডার ক্ষেত্রেও একই কথা। 

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার প্রধান সড়কের নাম আগে থেকেই ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বুলেভার্ড’। এখন থেকে পাম বিচগামী প্রতিটি যাত্রীর টিকিটে ‘ডিজেটি ’ কোড দেখা যাবে।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে। করপোরেট পাইলট ক্রিস বেইলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প যা করেছেন, তার জন্য তার নামে বিমানবন্দর হওয়াটা স্বাভাবিক।

অন্যদিকে চিকিৎসক জন মানভ সমালোচনা করে বলেন, পাম বিচ নামটাই ভালো ছিল। অনেকে ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না। তাই এই সিদ্ধান্তটা রুচিসম্মত হয়নি।

জীবিত প্রেসিডেন্টের নামে সরকারি স্থাপনা নামকরণ না করার যে দীর্ঘদিনের প্রথা ছিল, তা থেকে এখন সরে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। 

একই দিন টেনেসিতে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ব্রিজ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটনের ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসের নামেও ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ভবনে তার বড় বড় ছবি টানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের নামে ভিসা, স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সরকারি কর্মসূচি চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে পাসপোর্ট ও জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপাসেও তার ছবি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি মার্কিন ডলার নোটে তার স্বাক্ষর যুক্ত করারও প্রস্তুতি চলছে।

সমালোচকরা বলছেন, এভাবে সরকারি স্থাপনা ও কর্মসূচিতে দ্রুত ট্রাম্পের নাম ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করছে।

তবে এরিক ট্রাম্প এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের পরিবারের নাম যেখানেই যায়, সেখানেই কিছুটা বিতর্ক হয়। বাবার অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মানে তিনি গর্বিত এবং নিজেকে বিনম্র মনে করছেন।

সূত্র: আরব নিউজ

ইত্তেফাক/এবিএস