বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমার নাগরিকের কাছে নকল এনআইডি, আটক ১১

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৭

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় পৃথক অভিযানে ১১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনজনকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত (পুশব্যাক) পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের গাছবুনিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন— মংবা তংচংগা (৩৪), মং এম (২০), কিংলা থুয়াং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতান নাইং (২০) ও মংতা নাইং (২০)।

বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের কারও কাছে বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ভ্রমণ নথি ছিল না। তারা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ঢেকিবুনিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মংবা তংচংগা নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধনের কপি দেখান। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ওই নথির সঙ্গে তার পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জালিয়াতি বা প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে রেজুপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিরাজ আলী ভূঁইয়া বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে আটক আটজনকে আদালতে পাঠানো হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ মোজ্জামেল হক বলেন, বিজিবির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে একই দিন দুপুরে ৩৪ বিজিবির গর্জনবুনিয়া বিওপির সদস্যরা গর্জনবুনিয়া এলাকার লেড়ায়ার তংচইঙ্গা বাড়ি এলাকা থেকে আরও তিনজন মিয়ানমারের নারীকে আটক করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের ৩৭/২ নম্বর পিলারের বাইশফাঁড়ি বিওপির দায়িত্বাধীন আমবাগান এলাকা দিয়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

পুশব্যাক হওয়া তিনজন হলেন— মানুসিং তংচঙ্গা (৬২), লাকি মং তংচঙ্গা (৩৮) ও মেতু মং তংচঙ্গা (১২)। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার হুয়াংকিং গ্রামে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক পাচার ও চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এপি