রেকর্ড পেনাল্টি মিসের পর মেসির ওপর কি আস্থা হারাচ্ছেন কোচ?

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ২০:০৭

চলমান বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে গোল খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তার নেওয়া দুর্বল শটটি সহজেই রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবেইর। আর এই ব্যর্থতার ফলেই এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মেসি; সেবার বল গোলবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮টি পেনাল্টি নেওয়ার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৪টি মিস করার রেকর্ডও এখন মেসির নামের পাশে। এই ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিতে তিনি গোল করেছেন, ৩টি গোলকিপার সেভ করেছেন এবং অন্যটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

পেনাল্টি মিসের এমন বিশ্বরেকর্ডের পর ফুটবল মহলে প্রশ্ন উঠেছিল— মেসির ওপর কি আস্থা হারাচ্ছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান একদম স্পষ্ট করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। 

স্কালোনি বলেন, ‘সবার আগে, লিও পেনাল্টি নেবে, সে যদি চায়। পেনাল্টি নেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের অন্য খেলোয়াড়দেরও আছে। কিন্তু সে যদি নিতে চায়, নেবে।’

স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মেসির ফুটবল লিগ্যাসি এবং টুর্নামেন্টে তার সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মই তাকে এই বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে।

কোচ আবারও আশ্বস্ত করেছেন যে, মাঠে সুযোগ তৈরির জন্য স্বাধীনভাবে পজিশন পাল্টানোর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এই ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের। স্কালোনি বলেন, সত্যি কথা হলো, আজকাল সে সাধারণত আরও বেশি মাঝমাঠে নিচে নেমে খেলে। কিন্তু আমাদের পুরো দল এবং বিশেষ করে যারা মাঠে তার আশেপাশে থাকে, তারা তাকে কেন্দ্র করেই খেলে। এটা খুব স্বাভাবিক এবং খেলার স্বাভাবিক গতিধারার মধ্যেই এটা ঘটছে। দল বুঝতে পেরেছিল যে সে ওই দিক থেকে প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ তৈরি করছে। সে বিপরীত দিকে এমন সব নিখুঁত পাস খুঁজে নিতে পারছিল, যেখানে সতীর্থরা অনায়াসে পৌঁছাতে পারত। আমার মনে হয়, বিষয়টা খুব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’

পেনাল্টিতে কিছুটা ভুগলেও চলতি টুর্নামেন্টে মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্স এক কথায় অবিশ্বাস্য। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৪১০ মিনিট মাঠে থেকে ১৫টি সুযোগ তৈরি করে নিজে ৮টি গোল করেছেন এবং ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচেও প্রথম গোলটি বানিয়ে দেওয়ার পর নিজে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, গত দুটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনি ৩৬টি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছেন, যেখানে নিজে করেছেন ১৫টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি অ্যাসিস্ট।

বয়স ৩৯ হলেও মেসির শরীরের ভাষা বা খেলার ধরনে কোনো নেতিবাচক পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন না কোচ। স্কালোনি মেসির ফিটনেস ও মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘লিও অনেক দৌড়াতে পারে, যেমনটা সে সবসময় পারে। এমন নয় যে সে বেশি বা কম দৌড়াচ্ছে। পার্থক্য হলো এখন তার সবকিছুই অনেক বেশি সুনিশ্চিত। হয়তো অনেককে এটা অবাক করছে, যারা তাকে চেনে না, যারা ভাবে ৩৯ বছর বয়সে সে এই পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারবে না। আমি অনেকবার বলেছি, সে যতদিন খেলতে চাইবে, ততদিন সেরা ফর্মে থাকবে। আমি এটা বিশ্বাস করি। আমি কোচ বলে নয়। তার যতদিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে, সে সেরা থাকবে।’

ইত্তেফাক/ এমএসআর