হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানে আবারও রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১২ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দিলেও কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে, অননুমোদিত পথে চলাচলের অভিযোগে একটি জাহাজের উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হামলার শিকার জাহাজটি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এই সংকট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের দাবি, কয়েকটি জাহাজ অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হয়। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: রয়টার্স

