কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বানের পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে দুই শিশু। শনিবার (১১ জুলাই) পৃথক ঘটনায় তারা নিখোঁজ হয়। ভেসে যাওয়া দুই শিশু হলো চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জলদাসপাড়ার সুজিত দাস (১২) এবং পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকার ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিম।
সুজিত চকরিয়ার জলদাসপাড়ার তুফান দাসের ছেলে। সে ভেসে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ। আর মুশফিকুর প্রবাসী নাছির উদ্দিনের ছেলে। তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ এ।
চকরিয়ার জলদাসপাড়ার স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তাদের পাড়ার বুকচিরে একটি গ্রামীণ সড়ক গেছে। সড়কটির এক পাশে মাছের ঘের, আরেক পাশে লোকালয়। লোকালয় থেকে বন্যার পানি সড়কের ওপর দিয়ে মাছের ঘের হয়ে মাতামুহুরী নদীতে পড়ছে। সুজিতসহ তিনজন সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ স্রোতে ভেসে গিয়ে মাছের ঘেরে পড়ে যায় সুজিত। এর পর থেকে সে নিখোঁজ।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান বলে জানান চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, স্রোত বেশি থাকায় এবং ডুবুরি দলের কেউ না থাকায় তারা উদ্ধারকাজ চালাতে পারেননি। চট্টগ্রামের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পেকুয়ার বলিরপাড়া এলাকায় বানের পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় শিশুটির চাচা লেদু মিয়া পানিতে ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শিশুটির মা তাকে ঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন। তখন ঘরে হাঁটুসমান এবং উঠানে কোমরসমান পানি ছিল। এ অবস্থায় লোকালয় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে কখন শিশুটি ভেসে যায়, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

