চিকিৎসা শেষে সেই বাঘিনী ফিরেছে সুন্দরবনে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৪

পূর্ব সুন্দরবনে শিকারির ফাঁদে আটকাবস্থা থেকে উদ্ধার বাঘিনী অবশেষে ফিরে গেছে তার আপন ঠিকানায়।

দীর্ঘ ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১টায় সুন্দরবনের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলের আন্দারিয়া খাল এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাঘিনীর গতিবিধি দেখার জন্য সুন্দরবনের ২০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বসানো হয়েছে ২০টি ক্যামেরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১টার সময় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলের আন্দারিয়া খাল এলাকায় বাঘটিকে অবমুক্ত করা হয়।

বাঘটি ছাড়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকিরখালের অদূরে শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হয়েছিল এই বাঘিনীটি। উদ্ধারের সময় তার সামনের বাঁ পায়ে প্রায় ৩ ইঞ্চি জায়গায় চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্ষতস্থানে পচন ধরে।

পরবর্তীতে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের ৬ মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে বাঘিনীটি আগের চেহারায় ফিরেছে। ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঘিনীর ওজন বেড়ে হয়েছে ৯০ কেজি। তার ক্ষিপ্রতা বেড়েছে এবং সে এখন নিজে শিকার ধরে খেতে পারবে। সুন্দরবনে ছাড়ার পর এখন তার গতিবিধি দেখার জন্য সার্বক্ষণিক ক্যামেরা ট্রাপিং চলছে।

ইত্তেফাক/এপি