কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৫) নামে এক পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহত ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বাড়ির লুৎফুর রহমানের মালিকানাধীন একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইব্রাহিম স্থানীয় সরু হাজীর বাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় মিনি পিকআপ চালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে ইব্রাহিম নিখোঁজ ছিলেন। রোববার দুপুরে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা তার ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসায় বাড়ির মালিককে জানান। বাড়ির মালিক তাৎক্ষণিক দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সরজিৎ বড়ুয়া এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পরে ঘরের তালা ভেঙে খাটের ওপর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ইব্রাহিমের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতের স্বজনরা জানান, ইব্রাহিমের প্রথম পক্ষে স্ত্রী ও ৩ সন্তান রয়েছে। তবে গত ৬ মাস আগে তিনি রেহেনা বেগম নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং তাকে নিয়ে নিমসারের এই বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রথম পক্ষের পরিবার ও ভরণ-পোষণ নিয়ে ইব্রাহিমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো।
এসআই মঞ্জুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক আলামত এবং মরদেহের অবস্থা দেখে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পলাতক এবং তার ফোনও বন্ধ। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

