রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের হাত আরও শক্ত করতে ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোন কেনার পুরো টাকা দিচ্ছে জার্মানি। বিষয়টির সঙ্গে জড়িত সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে এটি ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় ড্রোন চুক্তিগুলোর একটি।
রোববার (১২ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে ইউক্রেন এখন ড্রোনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। দেশটি প্রতি বছর লাখ লাখ ড্রোন তৈরি করছে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।
নতুন এ চুক্তির আওতায় জার্মানির অর্থায়নে সরবরাহ করা হবে ইউক্রেনের নামকরা কোম্পানি স্কাইফলের তৈরি ‘শ্রাইক’ ফার্স্ট পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন। এ ড্রোনে ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অটেরিয়ন কোম্পানির উন্নত সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারের কারণে ড্রোনটি শেষ মুহূর্তে নিজে থেকেই চলন্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে তা অনুসরণ করতে পারে এবং আঘাতও হানতে সক্ষম।
অটেরিয়নের প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জ মেয়ার চুক্তির আকার নিশ্চিত করে বলেছেন, এর দাম প্রায় ৯ কোটি ইউরো (প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার)। তিনি জানান, ইতিমধ্যে কিছু ড্রোন ইউক্রেনে পৌঁছে গেছে। বাকি ড্রোনগুলো চলতি বছরের মধ্যেই দেওয়া হবে।
স্কাইফল কোম্পানি জার্মানির অর্থায়নের বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে চুক্তির আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হয়নি। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তার কথা বলে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
শ্রাইক ড্রোন এখন আলোচনার কেন্দ্রে
২০২৩ সাল থেকে ব্যবহৃত এই সস্তা কিন্তু কার্যকর শ্রাইক ড্রোন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ নজর কেড়েছে। স্কাইফল ও ব্রিটিশ কোম্পানি স্কাইকাটারের যৌথভাবে তৈরি শ্রাইক-১০ এফ মডেলটি পেন্টাগনের এক প্রতিযোগিতায় প্রথম ধাপে সেরা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ১.১ বিলিয়ন ডলারের বড় একটি কর্মসূচির অংশ।
লরেঞ্জ মেয়ার আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকারের অর্থায়ন ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অটেরিয়ন এ বছর ইউক্রেনকে মোট এক লাখ ড্রোন সরবরাহে সাহায্য করছে। এর মধ্যে পেন্টাগনের ৫ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় ৩৩ হাজার ড্রোন ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাজ্যও ঘোষণা দিয়েছে যে, ৭৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের একটি সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে চলতি বছর ইউক্রেনকে দেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ড্রোন।
যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিচ্ছে ড্রোন, আর এ ধরনের সহায়তা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

