২০২৬ সালে রাশিয়া থেকে রেকর্ড গ্যাস আমদানির পরই ইইউর নতুন নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২১:১২

রাশিয়ার প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্প ইয়ামাল এলএনজি থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রেকর্ড পরিমাণ গ্যাস আমদানি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে সাইবেরিয়ার এই প্রকল্প থেকে প্রায় পুরোটাই ইউরোপে চলে গেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইইউ ইয়ামাল থেকে ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর পরও ইউরোপ এখনও রাশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্পকে চালু রাখতে সাহায্য করছে। বেসরকারি সংস্থা উরগেভাল্ডের হিসাব অনুসারে, এই এলএনজি কিনতে ইউরোপকে প্রায় ৬০০ কোটি ইউরো খরচ করতে হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি গ্যাস কিনেছে ফ্রান্স (৩৬ লাখ টন), এরপর বেলজিয়াম (২৯ লাখ টন) এবং স্পেন (২৭ লাখ টন)।

উরগেভাল্ডের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক প্রচারক সেবাস্টিয়ান রোটার্স এই পরিসংখ্যানকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকায় তীব্র হামলা চালালেও ইউরোপ এখনও রাশিয়ার গ্যাস কিনে যাচ্ছে।

বর্তমান নিয়মে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে রাশিয়ার এলএনজি কেনা নিষিদ্ধ। তাই প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে দেশীয় কাস্টমসকে নিশ্চিত করতে হয় যে, এটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে। তবে আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির ওপরও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। একই বছরের শেষের দিকে পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার গ্যাস আমদানিও বন্ধ হয়ে যাবে।

ইয়ামাল প্রকল্পটি চালু রাখতে ইউরোপের কেনাকাটা খুবই জরুরি। কারণ এই প্রকল্প ‘আর্কটিক ৭ আইস-ক্লাস’ ট্যাংকারের ছোট একটি বহরের ওপর নির্ভরশীল। এসব জাহাজ সহজেই ইউরোপের বন্দরে যাতায়াত করতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ায় পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় ও ঝুঁকি নিতে হয়।

ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপে সরবরাহ বাড়লেও এশিয়ায় রপ্তানি ৭৪ শতাংশ কমে মাত্র ৫ লাখ ১০ হাজার টনের কাছাকাছি নেমে এসেছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে এশিয়ায় রপ্তানি বাড়ে, কিন্তু এবার তা হয়নি। নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি, বীমা প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারীরা এ ধরনের চালানে জড়াতে সতর্ক হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া ইয়ামালের আইস-ক্লাস ট্যাংকারগুলোর মেরামত এখনও ফ্রান্সের ব্রেস্টের ড্যামেন শিপইয়ার্ড ও ডেনমার্কের ফেয়ার্ড এ/এসের ওপর নির্ভর করে।

সেবাস্টিয়ান রোটার্স বলেন, ইয়ামাল এলএনজি একটি ছোট বিশেষায়িত জাহাজ বহর, ইউরোপীয় বন্দর ও সেবার ওপর নির্ভর করে চলছে। ইউরোপ এখনও এই তিনটি সুবিধাই দিয়ে যাচ্ছে।

২০১৭ সালে ভ্লাদিমির পুতিন যে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন, সেটি বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র। বছরে ১ কোটি ৭৪ লাখ টন উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে চলছে এটি। প্রকল্পের প্রধান মালিক রাশিয়ার নোভাটেক, এছাড়া ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস ও চীনের সিএনপিসিরও অংশীদারিত্ব রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ‘অস্পষ্টতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টোটালএনার্জিসের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক পুয়ানে বলেছিলেন, প্রয়োজনে ইয়ামাল প্রকল্প থেকে গ্যাস রপ্তানিই বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হলে রাশিয়া কীভাবে এই বড় প্রকল্পটিকে সচল রাখে।

ইত্তেফাক/এবিএস