বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাসের মাথায় ডাচ রেফারির আকস্মিক মৃত্যু

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৩

বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেল থেকে বাদ পড়ার দুই মাসের মাথায় ডাচ রেফারি রব ডিপেরিঙ্কের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এই আন্তর্জাতিক রেফারির চলে যাওয়ার খবরে ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি লন্ডনে একটি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও পরবর্তীতে সেই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি) এক শোকবার্তায় ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, তার এই অকাল প্রয়াণে তারা স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত।

এবারের বিশ্বকাপের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ডিপেরিঙ্ক। কিন্তু গত এপ্রিলে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে একটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করলে গত মে মাসে ফিফা তাকে বিশ্বকাপের রেফারি তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় তিনি লন্ডনে ক্রিস্টাল প্যালেস ও ফিওরেন্তিনার মধ্যকার কনফারেন্স লিগের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে অবস্থান করছিলেন। তবে পরবর্তীতে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে পুলিশি মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন।

আইনি জটিলতা ও বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া নিয়ে মৃত্যুর আগে ডাচ পত্রিকা ‘ডি টেলেগ্রাফ’-কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ডিপেরিঙ্ক। সে সময় তিনি চরম মানসিক যাতনা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগের কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি। আমি শুরু থেকেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা ও উয়েফাকে সব স্পষ্ট করেছিলাম। কিন্তু এত কিছুর পরও ফিফা আমাকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি।’

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই রেফারি ডাচ ঘরোয়া লিগ ছাড়াও ইউরোপীয় ফুটবলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আসর থেকে বাদ পড়ার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তার এই না ফেরার দেশে চলে যাওয়াকে একটি ট্র্যাজিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/এনএন