আড়াই মাসে সারা দেশে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৩ হাজার

২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৬ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮

দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত আড়াই মাসে প্রায় ৩৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ । একই সময়ে অন্যান্য মামলা ও নিয়মিত অভিযানে আরো প্রায় ৮৪ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং অন্যান্য মামলা ও অভিযানে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সারা দেশ থেকে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি ককটেল, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বাজি উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটারগান, ১৮টি রিভলবার, ১৫টি পাইপগান, ১২টি এয়ারগান, ৪টি শটগান, ২টি রাইফেল, ২টি এসএমজি এবং একটি পেনগান ।

মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬ পিস ইয়াবা, ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশি মদ, ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিস্তার রোধ এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সারা দেশে এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে । গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ, বিশেষায়িত ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়েও পুলিশ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান অভিযানে নিয়মিত মামলার আসামিদের পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এবং পলাতক অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরো জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এনএন