রাজশাহীর তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় প্লাবনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শিব নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধটির দৃশ্যমান কোনো সংস্কার না হওয়ায় প্রতিবছর কোথাও না কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তানোর ও মোহনপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অকাল বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসল ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাংহাটি, মেলান্দী ও বেলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁধের ওপর ও আশপাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থাপনার কারণেও বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের, আব্দুল লতিফ ও আশরাফ আলী বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে বেলনা, মেলান্দী, গোছা, দেওপুর, ঘাসিগ্রাম, শ্যামপুর, ভীমনগর ও পালশা এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বেলনা থেকে ভীমনগর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে বেলনা, তুলসীক্ষেত্র ও স্লুইসগেট এলাকায় ভাঙনের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে কোটি কোটি টাকার কৃষি ফসল ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মালেক মণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, বাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, এ বিষয়ে একটি আবেদন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে প্রকৌশলী পাঠিয়ে পরিস্থিতি তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

