বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরলেন মাহদী আমিন

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৩:০৩

বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মধ্যে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্বেগের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দুর্যোগের কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন জানান, দেশজুড়ে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনের অনুকূল পরিবেশ থাকায় বৃহত্তর স্বার্থে তা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চলমান রাখার এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রশাসন প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এমনকি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কেউ পরীক্ষা দিতে না পারলে, তাকে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুলের জন্য সবাইকে পুরো নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের একটি আলোচিত ছবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কেবল ওই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় দেওয়া হয়। বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিচ্ছিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই-একটি কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। পুরোনো ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং উসকানি দেওয়া গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হয়ে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। পরীক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে শিক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা।’

ইত্তেফাক/এনএন