আরও নিঃসঙ্গ মমতা, এবার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মদন মিত্রও হাত ছাড়লেন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৫

তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের ধারা আরও জোরালো হল। সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাবেক অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জাবেদ খানসহ একের পর এক হেভিওয়েট নেতার পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বসে মদন মিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সব দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের জাতীয় কমিটির চিফ হুইপ, ওয়ার্কিং কমিটি ও জেনারেল সেক্রেটারির পদসহ সব পদ ছেড়ে দিয়েছেন।

মদন মিত্র বলেন, জীবন-মরণের সাকোর সামনে দাড়িয়ে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি সম্মান জানাই, তাকে ধন্যবাদ দিই। আজ থেকে আমি তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। তৃণমূলেরই ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এই ঘর থেকে ওই ঘরে চলে গেলাম। ওখানে সুখের পালঙ্ক ছিল, এখানে খাটিয়া। আমি খাটিয়াকেই বেছে নিলাম।

এরপর মদন মিত্রকে পাশে বসিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের লড়াই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। মদন মিত্রের মতো একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রীর যোগদানে আমরা আরও শক্তিশালী হলাম।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির তলবই মদন মিত্রের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ। হাজার কোটি টাকার চিটফান্ড মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মদন মিত্র। সম্প্রতি চাকরি দুর্নীতি মামলাতেও তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূর নাম জড়িয়েছে। এই চাপের মধ্যেই তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আসল তৃণমূলে যোগ দিলেন।

ইত্তেফাক/এবিএস