আওয়ামী লীগের বিচার হবে আইন অনুযায়ী, নির্বাহী আদেশে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৯:১৮

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে সরকার সঠিক মনে করে না।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও সংগঠন হিসেবে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদেও গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো সংগঠনের বিচার করার বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের দায়ও আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা হবে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।

তিনি জানান, বিদেশে অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়। দেশের সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে এবং তাদের অবদানই সবচেয়ে বড়।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার যেন দেশের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বৈরাচারের পরিণতি সম্পর্কে শিক্ষা নিতে পারে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ দলটির নেতারা, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম