ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের পানের বরজ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে চালানো এই তাণ্ডবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ আলেক কাজী ও তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত (স্ট্রোকজনিত কারণে শয্যাশায়ী) স্ত্রী। তিলে তিলে গড়ে তোলা আয়ের একমাত্র উৎসটি হারিয়ে দিশেহারা বৃদ্ধ দম্পতি।
বুধবার (১৫ জুলাই) কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগতর রাতে পানের বরজটি কেটে ফেলা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুধরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রবণ প্রতিবন্ধী আলেক কাজী কোনো রকমে এই পানের বরজটি আগলে রেখে সংসার চালাতেন। বরজ থেকে অর্জিত সামান্য আয় দিয়েই চলত তাদের দু-মুঠো ভাতের জোগান এবং দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী তার স্ত্রীর প্রতিদিনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের খরচ। কিন্তু গত রাতে একদল দুষ্কৃতকারী বরজের সব পানগাছ কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ বছরের বৃদ্ধ কাজী আলেক ও তার চলাচলের শক্তি হারানো স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে জানান, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তাদের ওই ১০ কাঠার পান বরজটি অবস্থিত। প্রতিদিনের মতো বুধবারও খুব সকালে নামাজ শেষ করে পান বরজে যান কাজী আলেক। কিন্তু বরজের ভেতর ঢুকতেই তার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তিনি দেখতে পান, পুরো বরজের সব পান গাছের গোড়া কেটে রেখে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানের বরজটি উজাড় হয়ে পড়ে আছে। নির্বাক আলেক কাজী ও তার অসুস্থ স্ত্রীর চোখের জল আর আকুল আর্তনাদ দেখে প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। এই চরম বিপদের মুহূর্তে বৃদ্ধ আলেক কাজীর পরিবার এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। কীভাবে সংসার চলবে আর কোথা থেকে আসবে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

