গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। তবে ঘরোয়া এই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তার সাবেক দুই স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও। বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ জানিয়েছেন আমিরের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অভিনেতা আমিন হাজি।
গত ৫ জুলাই ঘরোয়া আয়োজনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। অনুষ্ঠানে তার মা, বোন ও সন্তানরা উপস্থিত থাকলেও সাবেক দুই স্ত্রী রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওকে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হলেও এর পেছনে কোনো পারিবারিক বিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন অভিনেতা আমিন হাজি।
সম্প্রতি রেডিফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিন হাজি বলেন, বিয়ের সময় কিরণ রাও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের ছেলে আজাদ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে ফিরে এসেছিল।
রীনা দত্তর অনুপস্থিতি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। আমিনের ভাষায়, সব অনুপস্থিতির পেছনে নেতিবাচক কারণ থাকে না। অনেক সময় কাউকে ব্যক্তিগত পরিসর দেওয়া এবং স্বস্তিতে থাকতে দেওয়াও ভালোবাসা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলতে কেউ চান না।
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছেদ হলেও আমির, রীনা ও কিরণের সম্পর্ক এখনো সৌহার্দ্যপূর্ণ। পানি ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে আমির খান, কিরণ রাও, রীনা দত্ত এবং সত্যজিৎ ভাটকাল এখনো একসঙ্গে কাজ করছেন।
এই সম্পর্কের একটি উদাহরণও তুলে ধরেন আমিন। তিনি জানান, রীনা দত্তর বাবা মারা গেলে রীনা ভ্রমণে ছিলেন। তখন আমির নিজেই শেষকৃত্যের আয়োজনের দায়িত্ব নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের আয়োজন নিয়েও কথা বলেন আমিন হাজি। তার ভাষ্য, এটি ছিল একেবারেই সাধারণ পারিবারিক অনুষ্ঠান। সেখানে কোনো সংগীতানুষ্ঠান, মেহেদি বা প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করেছেন, সময় কাটিয়েছেন।
বিয়ের আগের সন্ধ্যায় দুই পরিবারের সদস্যদের পরিচিতি পর্বেরও আয়োজন করা হয়। আমিন বলেন, গৌরীর পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিক। প্রথমবার দেখা হলেও মনে হয়নি নতুন পরিচয়। তাদের মধ্যে কোনো অহংকার নেই এবং তারা আমিরকে খুব ভালোবাসেন।
সাক্ষাৎকারে আমির খানের ব্যক্তিজীবন নিয়েও কথা বলেন আমিন হাজি। তার মতে, একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য কখনোই এক পক্ষকে দায়ী করা যায় না। বাইরে থেকে সম্পর্ক যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল।
তিনি বলেন, কাজের প্রতি আমিরের অতিরিক্ত নিবেদনও তার ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলেছে। যে মানুষ নিজের কাজে এতটাই নিমগ্ন থাকেন, তার সঙ্গীর কখনো কখনো অবহেলিত মনে হতে পারে। তবে বিচ্ছেদের পরও আমির সব সময় সাবেক পরিবার ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীল থেকেছেন।

