যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ইউরোপভিত্তিক কোম্পানি এয়ারবাস উভয়ের উড়োজাহাজই বাংলাদেশ কিনবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার। আমরা দুটোই ক্রয় করব।’
ফ্রান্সের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকার এয়ারবাস কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। কোনো চাপের কারণে কি বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাকি স্বার্থের (দেশের) কারণে– এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনকে তো আমাদের আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে ভঙ্গুর অর্থনীতি ইনহেরিট (উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া) করেছেন গত সরকারের কাছ থেকে, এই অর্থনীতিকে ভালো অবস্থায় নিতে হলে একদিকে আমাদের যেমন কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে, আবার আমাদের যা যা প্রয়োজন, সেগুলো ক্রয়ও করতে হবে। আমাদের বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার। আমরা দুটোই ক্রয় করব।’
বিনিয়োগ বা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি কোনো এক দেশকে বেশি ছাড় দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অবশ্যই না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাবসলিউটলি বাংলাদেশের স্বার্থকে সবচেয়ে আগে দেখা হয়।’
২০২৩ সালের মে মাসে লন্ডনে দ্বিপক্ষীয় ‘এভিয়েশন পার্টনারশিপ’ চুক্তির আওতায় এয়ারবাস কেনার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছিল বাংলাদেশ। ওই ঘোষণাপত্র সইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম এয়ারবাস থেকে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনা। ওই উড়োজাহাজ কিনতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে ‘ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স’ স্কিমের আওতায় সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল।
দুই বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
এদিকে বিএনপি সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ বজায় রেখে টেকসই মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ মার্ক সেরে শার্লেট, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আনজা টারস্টেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের ডেপুটি চিফ বাইবা জেরিন উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপের এই চার কূটনীতিক আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানেও এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

