নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সার কারখানা ‘ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা’ কেন্দ্রিক একটি চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) নবনির্বাচিত মহাপরিচালক ও বিসিআইসির নিবন্ধিত সার ডিলার মো. সাইদুর রহমান হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন, কারখানার সারবাহী প্রতিটি ট্রাক থেকে নিয়মিতভাবে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে সাইদুর রহমান জানান, বর্তমানে সার লোডিংয়ের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ’ এবং এর স্থানীয় এজেন্ট জাকির হোসেনের নেতৃত্বে এই অবৈধ অর্থ আদায় চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাইদুর রহমান দাবি করেন, প্রতিদিন কারখানা থেকে গড়ে ১৫০ থেকে ১৭০টি ট্রাক সার নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ট্রাকপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া শুরু হলেও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর তা বাড়িয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১১ জুলাই বিএফএ-এর কেন্দ্রীয় নির্বাচনে মহাপরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে গত ৩ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এসব অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেন।
এদিকে, সাইদুর রহমানের আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাকির হোসেন। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় সাইদুর রহমান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করিয়েছেন এবং সেই ঘটনায় তিনি সাইদুরসহ নয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
সার কারখানা এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পলাশ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, সার লোড-আনলোডের বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চাঁদাবাজির বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাইদুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই চাঁদাবাজি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

