ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াদ শহরে এক হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক ঘটনায় পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে। শহরের একটি আবাসন থেকে অ্যানেসথেটিস্ট চিকিৎসক ড. কিরণ হোনান্নাভারের রক্তভেজা মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ দেখে, পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে তাদের আট বছরের শিশুপুত্র, আর ঠিক তার পাশেই খাটে শুয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ড. প্রিয়ঙ্কা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ধারওয়াদের কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোড এলাকার ‘রাঙ্কা স্টেলো’ অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ছিলেন এই চিকিৎসক দম্পতি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে স্বজনরা কিরণের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সময় স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা একেকবার একেক ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিলেন। অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় স্বজনরা ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং ওই গা শিউরে ওঠা দৃশ্যের মুখোমুখি হন।
পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন ড. কিরণের গলায় মারাত্মক জখমের চিহ্ন এবং তিনি তোশকের ওপর রক্তের মধ্যে পড়ে আছেন। পাশে থাকা শিশুপুত্রটিকেও রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে কেবল স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তানই ছিলেন এবং সেখানে কোনো বহিরাগত প্রবেশের প্রমাণ নেই। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী ড. প্রিয়ঙ্কার আচরণ অত্যন্ত রহস্যজনক ও অসংলগ্ন। চরম মানসিক ধাক্কায় নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তিনি এমন নির্বিকার ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ড. প্রিয়ঙ্কাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কেন একজন চিকিৎসক মা ও স্ত্রী এমন পাশবিক কর্মকাণ্ডের পরও অবিচল থাকতে পারেন, তা এখন তদন্তকারীদের জন্য বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

