পাকিস্তানি চাল আমদানি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪২

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে চাল রপ্তানির সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চাল রপ্তানির লক্ষ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। সফরকালে তারা বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে সম্ভাব্য এই চাল আমদানিকে ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক দিক থেকে নানা প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৫ সালে পাকিস্তানের ১০৪টি চালের চালান জব্দ ও ফেরত পাঠায়। অভিযোগ ছিল, এসব চালে ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ (এমআরএল) অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রধান অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, এমআরএলের মাত্রা বেশি থাকা চাল দীর্ঘদিন খেলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে পেটব্যথা, বমিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসক তুনাজিনা শাহরিন বলেন, বিদেশ থেকে খাদ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কঠোর পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যথাযথ পরীক্ষার আগে কোনো খাদ্যপণ্য ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থনৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন

এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের আগের একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গত বছর ভিয়েতনাম যেখানে প্রতি টন চাল ৪৭৪ মার্কিন ডলারে সরবরাহ করছিল, সেখানে পাকিস্তান থেকে একই পণ্য প্রায় ৪৯৯ ডলার প্রতি টনে কেনা হয়েছিল। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে একই ধরনের পণ্য পাওয়া গেলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি দামে আমদানি করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পাটের বাজার নিয়েও সংশয়

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাটের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শিল্প পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের বড় ধরনের বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

তাদের মতে, সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা ও স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করেই এ ধরনের কোনো আমদানি বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ইত্তেফাক/এমএএম