ভোলার লালমোহনে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ঘরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল জব্দ করেছে প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ৬ নম্বর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাতানী এলাকার মুদি দোকানদার জসিমের বসতঘর থেকে এসব চাল জব্দ করা হয়। এ সময় মুদি দোকানি জসিম পালিয়ে যায়।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি রুবেল কাজি জানান, স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জসিমের বসত ঘরের খাটের নিচে তল্লাশি করে ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। পরে এসব চাল পুলিশ পাহারায় প্রশাসনের হেফাজতে নিয়ে যাই। চাল কোথা থেকে এলো এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চেষ্টা করলে ঘরের মালিক জসিমকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, এই চাল তার স্বামী বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কিনেছেন। চালের বস্তায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিল রয়েছে।
চাল জব্দের বিষয়টি জানার জন্য ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোস্তফা পাটোয়ারীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এতে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে ওই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বশির আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া চালের কিছুই জানা নেই।
তিনি আরও জানান, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের এক হাজার জেলের জন্য মাথাপিছু ৭৪ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এই চাল আরও ২ মাস আগে বিতরণ করার কথা থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে সময়মত জেলেদের অনুকূলে এই চাল বিতরণ করা যায়নি। শনিবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিতে ৫০০ জেলে মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চাল হয়তো কেউ গুচ্ছ আকারে মুদি দোকানির কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে।

