১ম গোল্ডেন বুট, ২য় বিশ্বকাপ, ৩য় গোল্ডেন বল, নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮

আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর লিওনেল মেসির দুর্দান্ত অভিযানে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন শুধু টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুট জয়েরই প্রধান দাবিদার নন, বরং আরেকটি ব্যালন ডি’অর জয়ের সবচেয়ে ফেভারিটের তালিকায়ও বড় লাফ দিয়েছেন। ক্রীড়া বিশ্লেষক ও বুকমেকারদের বিশ্লেষণে এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির মাঠে নামা মানেই যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম। নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা যেন তার কাছে এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল তার সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় এক সুযোগ। এমন একটি কীর্তি গড়ার, যা শুধু তার রেকর্ডের খাতাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ফুটবল ইতিহাসে তার অমরত্বের স্বীকৃতিকে আরও বিস্তৃত ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

প্রেডিকশন মার্কেট ও প্রচলিত স্পোর্টসবুক– উভয় ক্ষেত্রেই গোল্ডেন বুট জয়ের বড় ফেভারিট এখন মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত পূর্বাভাস (ভবিষ্যদ্বাণী) বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কালশি’র তথ্যমতে, গোল্ডেন বুট জয়ের ক্ষেত্রে মেসির সম্ভাবনা ৫৯ শতাংশ। 

যদিও গতকাল পর্যন্তও ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে এগিয়ে ছিলেন। গতকাল রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার গোল এখন ১০টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। মেসি ফাইনালে ২ গোল করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জিতবেন। স্পেনের জাল ছিড়ে মেসি গোল করতে পারলে শুধু নিজের অর্জনই না, আর্জেন্টিনাকে শিরোপার পথে এগিয়ে নেবেন নিশ্চিতভাবে। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো গোল্ডেন বুট না জেতা মেসির শোকেস নিশ্চিতভাবেই এই পুরস্কারের অপেক্ষায়। 

ব্যালন ডি’অর নির্বাচনের হিসাব পাল্টে দিলো বিশ্বকাপ

একইভাবে ব্যালন ডি’অর জয়েও বড় ভূমিকা থাকে অডস–এর। অডস মানে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত এই পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ফুটবলারের সম্ভাবনা বা বাজির দর। বাজি ধরার ওয়েবসাইটগুলো ফুটবলারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ট্রফি জয় ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই রেটিং বা সম্ভাবনার তালিকা তৈরি করে। যে খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকেন, বাজির বাজারে তার ‘অডস’ তত কম থাকে।

এর আগে, মেসি গোল্ডেন বল জিতেছেন দুইবার। অর্থ্যাৎ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন দুইবার। ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেননি মেসি। ২০২২ সালে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবারও মেসি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন গোল্ডেন বল তার হাতে উঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো কোনো খেলোয়াড় তিনবার এই ট্রফি জেতেনেনি। মেসি স্রেফ ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।  

২০২২ সালে কাতারের লুসাইলে মেসির চিরকালীন আক্ষেপ দূর হয় বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। চার বছর পর মেসি ঠিক একই রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। একই অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসির সাফল্যের মুকুটে যে পালক যুক্ত হবে তা নিশ্চিতভাবেই, সর্বকালের সেরা ফুটবলারের যে বিতর্ক তা ইতি টেনে দিতে পারবে। মেসিকে সর্বকালের সেরা বলতে আর দ্বিধা থাকবে না। 

স্পেনের বিপক্ষে মেসির আজকের রাতটা ঐশ্বর্যময়। ফুটবল মাঠে তার আরেকটি ভালো দিন তাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতা মেসি সর্বশেষ এই পুরস্কার জিতেছেন ২০২৩ সালে। এবার নবমবারের মতো জিততে পারলে তিনি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর (৫টি) চেয়ে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেবেন। তিনি সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০১৭ সালে। চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগালের পাশাপাশি রোনালদোর পারফরম্যান্সও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ছিল না।

 

 
ইত্তেফাক/এনটিএম