দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রতিবছর প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন তিনটি গ্যাস ও তেল কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করছে। এই সরবরাহ আরও বাড়াতে নতুন কূপ খননের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ডুপিটিলা-১ কূপসহ নতুন কয়েকটি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, আটটি কূপের মধ্যে এখনো তিনটির খনন শেষ হয়নি। এগুলো হলো রশিদপুর-১৩, ডুপিটিলা-১ এবং কৈলাশটিলা-৯।
তার আশা, এই তিনটি কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস যোগ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। বাকি তিনটি কূপের ড্রিলিং শেষ হলে আরও ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ করা যাবে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে এলএনজি আমদানি কমাতে হলে দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও বড় ধরনের গ্যাস ও তেলের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করে অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুসন্ধানের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।’
১৯৫৫ সালে দেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কৃতিত্ব সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের। পেট্রোবাংলার আওতাধীন রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের গ্যাসকূপ থেকে আহরিত জ্বালানি তেল দেশের পেট্রোলের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ, অকটেনের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ডিজেলের ৯ শতাংশ এবং কেরোসিনের প্রায় ২ শতাংশ চাহিদা মেটাচ্ছে।

