টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
আগামী দুই দিনে রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদী দুটির কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বাড়ছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন এসব নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে।

