সময় টিভির চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে মামলা স্থগিত করল হাইকোর্ট

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৩

সময় টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল (কোয়াশ) করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী ৪ আগস্ট এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

শুনানি শেষে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, সময় টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক আহমেদ জুবায়ের প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ‘সানী চৌধুরী’ নামে একজনকে লেটার অব অথরিটি দিয়ে চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরে নিম্ন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রতিষ্ঠানটি ওই মামলা পরিচালনা করবে না। কারণ, কোম্পানি আহমেদ জুবায়েরকে এ ধরনের মামলা দায়েরের জন্য কোনো লেটার অব অথরিটি বা ক্ষমতা দেয়নি।

শিশির মনির জানান, এ অবস্থায় সময় টেলিভিশন লিমিটেড নিম্ন আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তা খারিজ করা হয়। পরে নিম্ন আদালতের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(এ) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

তিনি বলেন, আবেদন শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন এবং কেন ফৌজদারি কার্যক্রমটি বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।

আইনজীবী শিশির মনিরের দাবি, কোনো কোম্পানির পক্ষে মামলা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিনিধিকে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকতে হয়। কিন্তু সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের এমন কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, কোম্পানি নিজেই আদালতে জানিয়েছে যে তারা এ মামলা পরিচালনা করতে চায় না এবং আহমেদ জুবায়েরকে এ ধরনের মামলা করার কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে কোম্পানির অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি কোম্পানির নামে ফৌজদারি মামলা করতে পারেন কি না—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন, যা হাইকোর্ট বিবেচনায় নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানির যথাযথ অনুমোদন বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সিদ্ধান্ত ছাড়া এভাবে মামলা করার সুযোগ থাকলে ভবিষ্যতে যে কেউ যেকোনো কোম্পানির নামে ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

ইত্তেফাক/এসএ