ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এক বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া হলফনামা তৈরির অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার সিএমএম আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে মো. নয়ন, মোসা. রিমা এবং আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলামসহ (তরু) অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশে মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামে এক দম্পতির বিয়ের হলফনামা আদালতের সংরক্ষিত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। যাচাই করে দেখা যায়, হলফনামাটি ভুয়া। এতে উল্লিখিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ৩০ নম্বর স্মারকে প্রকৃতপক্ষে মো. জাফরুল ইসলাম নামের অন্য এক ব্যক্তির হলফনামা নিবন্ধিত রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে একটি ভুয়া হলফনামা তৈরি করেন। পরে ওই জাল নথি ব্যবহার করে বরগুনার বামনা আমলি আদালতে একটি সিআর (নালিশি) মামলা করার চেষ্টা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে আদালতের নাম, বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁরা প্রতারণা ও জালিয়াতির অপরাধ করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা নেওয়ার আবেদন করা হয়।
মামলার বাদী খালিদ হোসেন বলেন, আসামিরা ১১ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে হলফনামা তৈরি করেছেন। আদালতে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি অন্য নামে অন্তর্ভুক্ত করা। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

