নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ভাবনা মামদানির, ট্রাম্প বললেন ‘কোনোভাবেই না’

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনি সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে শহরের আইন বিভাগ বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এমন বক্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে ‘কোনোভাবেই’ গ্রেপ্তার করা হবে না।

সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ যদিও তিনি তার পোস্টে মামদানির নাম উল্লেখ করেননি। 

নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউ’-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, তার বিশ্বাস, নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শহরের আইন বিভাগ সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের সুযোগ পর্যালোচনা করছে।

২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে ইসরায়েল আদালতের এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু সাধারণত নিউইয়র্ক সফর করেন। তার সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে মামদানির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইসিসিকে ‘প্রহসনের আদালত’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে মামদানির মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার পরিচালনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়।

 

ইত্তেফাক/এসজে