নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাকরিচ্যুতরা হলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা।
জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দার রামনাথপুর পাগলা এলাকায় এক রোহিঙ্গাকে টাকার বিনিময়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একইভাবে নেত্রকোনা সদরেও এক রোহিঙ্গাকে আইডি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ কাজে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগও ওঠে।
গত জানুয়ারিতে দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত তিন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কলমাকান্দা নির্বাচন অফিসে আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ওই তিনজন নির্বাচন অফিসের কেউ নন, তারা কোম্পানির হয়ে আউট সোর্সিংয়ে নির্বাচন অফিসে কাজ করছিলেন।'
মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন আরও বলেন, জেলায় এ-সংক্রান্ত আরও যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলোরও তদন্ত চলমান।
এদিকে চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া গতকাল সোমবার ইবাদ হোসেন নামে এক সাংবাদিককে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইবাদ হোসেন আজ নেত্রকোনা মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।
কাঞ্চন মিয়া দাবি করেন, চাকরিচ্যুতির খবর পেয়ে মানসিক চাপ ও ক্ষোভে তিনি ওই সাংবাদিককে গালাগাল করেছেন। পরে স্বাভাবিক হয়ে ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

