রাজধানীতে প্রকাশ্যে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন, বুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৬

রাজধানীর সবুজবাগে পূর্বশত্রুতার জেরে পলাশ (৩৬) নামে এক ওয়ার্ড বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পানির পাম্পসংলগ্ন একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে পলাশকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বন্ধু মো. হিরা জানান, পলাশ আগে ভাড়ায় গাড়ি চালালেও বর্তমানে বেকার ছিলেন। তিনি সবুজবাগ ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ছিলেন। তার অভিযোগ, এলাকার মাদক কারবারি ও রিকশা চোর হিসেবে পরিচিত রয়েল এবং তার সহযোগীরা পানির পাম্পসংলগ্ন গলিতে পলাশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পলাশের দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া বুকে ছুরিকাঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়।

হিরা আরও বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রিকশা চুরির অভিযোগে সবুজ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। পরে রয়েল তাকে ছাড়িয়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পলাশের সঙ্গে রয়েলের কথা-কাটাকাটি হয়। তাদের ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

ঢামেক হাসপাতালে নিহতের বোন জোসনা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। পলাশ সবুজবাগের মাদারটেক চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে রয়েল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পলাশের মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান বলেন, ‘সবুজবাগ এলাকায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’

পরিবার ও স্বজনদের দাবি, স্থানীয় বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এনএন