মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিককে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগে লিজা বেগম নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ মাতুব্বর (২৬) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের হায়দার মাতুব্বরের ছেলে এবং অভিযুক্ত লিজা নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে ও কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মারুফের সঙ্গে লিজার ৬ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে ৪ বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে কুয়েত প্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের সঙ্গে লিজার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর স্বামী কামরুল মাতুব্বর কুয়েত চলে যায়। এর মধ্যে প্রেমিক মারুফ মাতুব্বরও ইতালি উদ্দেশে যাওয়া লিবিয়ায় অবস্থান থেকে প্রায় এক মাস আগে দেশে ফেরত আসেন। এরপর থেকে মারুফ ও লিজার মধ্যে আবারও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে প্রেমিক মারুফকে প্রেমিকা লিজা ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন এবং আসার পর দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় প্রেমিকা লিজা প্রেমিক মারুফের মাথায় আয়রন মেশিন (ইস্ত্রি) দিয়ে আঘাত করলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মারুফ।
পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো উপায় না দেখে গলায় ক্যাবল পেঁচিয়ে খাটের নিচে লুকিরে রাখে। কিন্তু ঘরের ভেতরের হট্টগোল ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি টের পান আশপাশের লোকজন। পরে তারা সন্দেহের জেরে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে লিজার খাটের নিচ থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং লিজাকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত মারুফের বাবা হায়দার মাতুব্বর বলেন, ‘আমার ছেলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
রাজৈর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মরদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের মরদেহ মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত লিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

