বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাব ও অসদাচরণের অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম (রায়হান)কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত জুন মাসে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যোগদান করা এক নারী চিকিৎসক অভিযোগ করেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বিভিন্ন সময় অকারণে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে পাঠাতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাবসহ অশালীন ইঙ্গিত করতেন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু হলে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকলে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা যায়। সেই বিধান অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ জুলাই ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ১৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগটি তদন্তের আবেদন করেন ডা. রেজওয়ানুর আলম। আবেদনে তিনি দাবি করেন, পূর্বশত্রুতা এবং নিয়মিত হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই চিকিৎসক তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
পরবর্তীতে ২১ জুলাই নারী চিকিৎসক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল এবং বিষয়টি সমাধান হয়েছে। তবে এর একদিন পর, ২২ জুলাই, তিনি আবারও ১৪ জুলাই দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
এ বিষয়ে নারী চিকিৎসক বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। তার ভাষায়, এ ঘটনা সমাজের জন্য একটি বার্তা যে, কর্মক্ষেত্রে সবাইকে আরও সচেতনভাবে আচরণ করতে হবে। বিভাগীয় কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি সুরক্ষামূলক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ডা. রেজওয়ানুর আলম অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার দাবি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় তিনি ওই চিকিৎসককে ১৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এর পরদিনই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

