সাভারে ট্যানারি শিল্প নগরীতে চামড়া সরবরাহ কম

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৩

সাভারে ট্যানারি শিল্প নগরীতে আগের চেয়ে এবার কুরবানি ঈদের পশুর চামড়া সরবরাহ কম হয়েছে। কিছু মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারিতে নিয়ে এলেও আশানুরূপ দাম পাননি। তবে এবার দাম খুবই কম হওয়ায় অনেকে চামড়া বিক্রি করতে আসেনি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বড় কোনো প্রতিষ্ঠান কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেনি। 

জানা গেছে, এসব বড় প্রতিষ্ঠান গুলো কাঁচা চামড়া সরবরাহ না করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুদকৃত লবণের চামড়া আরও ১৫/২০দিন পরে সরবরাহ করবে। 
   
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের মাদরাসা, এতিমখানাসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের চুক্তি অনুযায়ী সাভার ট্যানারি শিল্প নগরীর কয়েকটি কারখানায় কাঁচা চামড়া সরবরাহ করলেও তাদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।  

আরও পড়ুন: নয়ন বন্ডের বাসায় চুরি!

সরেজমিনে, হেলাল ট্যানারি, এসবি শাহী ট্যানারি, ইসলামিয়া ট্যানারি, আজমীরি, ঢাকা হাইড এন্ড স্কিনস লি., একে লেদার, কালু লেদার, ও ভুলুয়া ট্যানারিসহ প্রায়  ৮/১০টি ট্যানারি কোরবানি ঈদের পশুর কাঁচা চামড়া কিনেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের পূর্বে থেকে চুক্তি হওয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছে।  

ঢাকা হাইড এন্ড স্কিনস লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫৫ হাজার গরুর চামড়া ও ২৫ হাজার ছাগলের চামড়া কিনেছে। 

জানা গেছে, ট্যানারি শিল্প নগরীর মাত্র ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান রক্তের চামড়া (কাঁচা চামড়া) সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এ্যপেক্সসহ শিল্প নগরীর আরও বড় বড় ট্যানারি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেনি। এরা ঈদের প্রায় মাস খানিক পর লবণের চামড়া সংগ্রহ করবে। 

এসবি শাহী ট্যানারির সামনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকে করে পচা চামড়া কারখানার সামনে নামানো হচ্ছে। সেখানকার শ্রমিক আফজাল হোসেন জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে পচা চামড়া ট্যানারিতে এনে ফেলে যাচ্ছে চামড়া ব্যবসায়ীরা। চামড়ার দাম কম হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জমাকৃত পচা চামড়া ট্যানারির বিভিন্ন কারখানার সামনে ফেলে যাচ্ছেন তারা। 

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী  দেলোয়ার হোসেন জানান, কুরবানির দিন আমিনবাজার থেকে কাঁচা চামড়া নগদ টাকায় কিনে এনে ট্যানারিতে বিক্রি করলেও এখনও টাকা পায়নি। যদিও ট্যানারির মালিকের সঙ্গে আগে থেকেই তার চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ট্যানারি মালিক দাম ঠিক করেনি। তাই ন্যায় মূল্য পাবো কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। 

ইত্তেফাক/অনি