বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালায় ইসরায়েলিরা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮

জোর করে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকেছে হাজারো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা। ইহুদিদের ধর্মীয় শোক দিবস ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন তারা। আর এতে নেতৃত্ব দেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) একদিনেই ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করেন, যা চলতি বছরের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরও আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে আয়োজিত এ সফর ঘিরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢুকেই ইহুদি ধর্মীয় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সেখানে গান গেয়েছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং প্রার্থনা করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, প্রাচীন জেরুজালেমে তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির বর্তমান আল-আকসা প্রাঙ্গণের স্থানেই ছিল। সে কারণেই তারা এলাকাটিকে টেম্পল মাউন্ট নামে অভিহিত করেন এবং ‘তিশা বাব’ দিবসে ওই মন্দির ধ্বংসের স্মরণে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করেন।

এদিকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল-আকসার বিভিন্ন প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থীকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আল-জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, পুরোনো জেরুজালেমজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বয়স্ক ব্যক্তিদের বাইরে অধিকাংশ ফিলিস্তিনির আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম, কালান্দিয়া এবং আশপাশের বিভিন্ন তল্লাশিচৌকিতেও নিরাপত্তা কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস