মেসির অটোগ্রাফ দেওয়া জার্সির চেয়ে বেশি দাম বিটিএস তারকার পোশাকের

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৮

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফটাইম শোর স্মারক নিয়ে শুরু হওয়া এক বিশেষ দাতব্য নিলামে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিটিএস সদস্য জিমিনের স্টেজ পোশাক। আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিজের এই আয়োজনের বর্তমান সর্বোচ্চ দর উঠেছে জিমিনের ওই কস্টিউমে, যা লিওনেল  জার্সির দরকেও ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের কারণে নয়, বিনোদন আয়োজনের দিক থেকেও নতুন নজির গড়ে। ওই আসরের ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় হাফটাইম শো। সেখানে একই মঞ্চে পারফর্ম করেন বিটিএস, শাকিরা, ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। সেই আয়োজনের ব্যবহৃত পোশাক ও সংগ্রহযোগ্য বিভিন্ন সামগ্রী নিয়েই এবার বিশেষ দাতব্য নিলাম করছে ক্রিস্টিজ।

গ্লোবাল সিটিজেন ও ফিফার যৌথ উদ্যোগে ‘ওয়ান গোল: অ্যান অকশন টু বেনিফিট দ্য ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন’ শিরোনামে এই নিলামে তোলা হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪০টির বেশি স্মারক। নিলাম চলবে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত। এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ব্যয় করা হবে।

এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর উঠেছে জিমিনের পরা একটি বিশেষ স্টেজ কস্টিউমে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হাফটাইম শোতে এই পোশাক পরেই মঞ্চে ওঠেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএসের এই সদস্য। বর্তমানে পোশাকটির দর উঠেছে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর উঠেছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির অটোগ্রাফ দেওয়া জার্সি এবং ম্যাডোনার ব্যবহৃত এক জোড়া গ্লাভসে। এই দুটি স্মারকের বর্তমান মূল্য ৬ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। সে হিসাবে জিমিনের পোশাকের দর এখন মেসির জার্সির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আলোচিত এই পোশাকে জিমিনকে দেখা গেছে স্পোর্টি স্টেজ লুকে। তিনি পরেছিলেন সাদা, লাল ও কালো রঙের সমন্বয়ে তৈরি একটি বেসবল-ধাঁচের জার্সি। জার্সির মূল অংশ ছিল সাদা, আর কাঁধ ও হাতায় ছিল উজ্জ্বল লাল প্যানেল।

পোশাকটির সামনের অংশে বড় করে লেখা ছিল ‘বিটিএস’। এর নিচে ছিল ৭ নম্বর। এছাড়া তারকা, ডানা ও বিভিন্ন গ্রাফিক মোটিফ ব্যবহার করা হয়, যা এটিকে স্পষ্টভাবে পারফরম্যান্স কস্টিউমের চরিত্র দিয়েছে। বাম পাশে ছিল ঢাল-আকৃতির একটি প্রতীকচিহ্ন এবং ডান হাতায় ছিল কালো-লাল প্যাচ, যা পুরো পোশাকে স্পোর্টস দলের জার্সির অনুভূতি তৈরি করেছে।

জিমিন জার্সিটি কালো বেল্ট দিয়ে টাক-ইন করে পরেছিলেন। এর সঙ্গে ছিল কালো ট্রাউজার, যা পুরো সাজকে আরও পরিপাটি ও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। হাতে ছিল কালো ও লাল রঙের ফিঙ্গারলেস গ্লাভস।

স্টাইলিংয়েও ছিল কে-পপ ঘরানার স্বাক্ষর। তার মাঝারি লম্বা অ্যাশ ব্লন্ড চুল মাঝখান থেকে সিঁথি করে নরম স্তরে সাজানো ছিল। মুখের দুই পাশে স্বাভাবিকভাবে নেমে আসা চুল তার উপস্থিতিকে আরও আলাদা করেছে।

মেকআপে ছিল স্বাভাবিক আভা। মসৃণ ত্বক, হালকা কনট্যুর, সফট হাইলাইট, সূক্ষ্ম আইলাইনার এবং হালকা স্মোকি আই মেকআপ ব্যবহার করা হয়। ঠোঁটে ছিল নিউড পিচ রঙের লিপ কালার। গয়নায়ও ছিল সংযম; কানে ছোট স্টাড বা হুপ দুল ছাড়া ভারী অলংকার ব্যবহার করা হয়নি।

নিলামের অন্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ব্যবহৃত অফিসিয়াল ম্যাচ বল, বিভিন্ন ফুটবলারের স্বাক্ষরিত জার্সি, শাকিরার স্টেজ পোশাক, বিটিএসের অন্য সদস্যদের কস্টিউম এবং ম্যাডোনার ব্যবহৃত আরও কয়েকটি অনুষঙ্গ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম হাফটাইম শোর স্মৃতি বহন করায় এসব সামগ্রী সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নিলাম শেষ হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকায় বিভিন্ন স্মারকের দর আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমান দর অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়া সেই হাফটাইম শোতে ব্যবহৃত জিমিনের পোশাকই এ পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত এবং সবচেয়ে বেশি মূল্য পাওয়া স্মারক হিসেবে এগিয়ে রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন