দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে বিস্ফোরণ, দগ্ধ দম্পতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:০১

সাভারের একটি ভাড়া বাসায় মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে দগ্ধ হয়েছেন এক পোশাক শ্রমিক দম্পতি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে সাভার পৌর এলাকার মজিদপুর মহল্লায় নূর মোহাম্মদের মালিকানাধীন একটি ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায়।

দগ্ধরা হলেন মো. কাওসার (২৮) ও তার স্ত্রী রুবি আক্তার (২৪)। তারা দুজনই স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার রিয়াজউদ্দিন মাতোপাড়া গ্রামে।

পুলিশ জানায়, রাতে ঘরের ভেতরে মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালানোর সময় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে দম্পতি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, কাওসারের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ এবং রুবি আক্তারের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দুজনকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।

দগ্ধ কাওসারের বাবা সীমান শেখ অভিযোগ করেন, ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া মূল গ্যাস লাইনের পাইপে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ ছিল। বিষয়টি একাধিকবার বাড়ির মালিককে জানানো হলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার দাবি, রাত ১২টার দিকে দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন।

তবে বাড়ির মালিক নূর মোহাম্মদ বলেন, তার ধারণা মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, দম্পতির কক্ষে কোনো গ্যাসের চুলা ছিল না। রান্নার ব্যবস্থা ভবনের অন্য পাশে থাকায় আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকভাবে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এপি