স্পেন কোচ

‘ফাইনালের অন্তিম মুহূর্তে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০৮

প্রথমে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট 'ইউরো' জয়, আর এবার ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ 'বিশ্বকাপ' ট্রফি—কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে চলেছে স্পেন। সাফল্যের চূড়ায় বসে থাকলেও মেগা ফাইনাল জয়ের আনন্দের মাঝে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা স্প্যানিশ কোচের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হওয়া হাতাহাতি ও সংঘাত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'টিভিই'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৬৩ বছর বয়সী এই সফল কোচ স্পষ্ট জানান, ফাইনালের অন্তিম মুহূর্তে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ জয়, মাঠের বিতর্কিত হাতাহাতি, মাঝমাঠের নির্ভরযোগ্য তারকা রদ্রি এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ কথা বলেন তিনি।

গত রোববারের মহারণে আর্জেন্টিনা দলকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমা গায়ে লাগায় স্পেন। তবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর আচমকাই তেতে ওঠে মাঠের পরিবেশ। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সাথে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির তীব্র কথাকাটাকাটি থেকে শুরু করে একপর্যায়ে তা সরাসরি ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাঁধলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সবাইকে আলাদা করতে হয়। একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিজে মাঠে নেমে নিজ শিষ্যদের ক্ষোভ শান্ত করতে দেখা যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্তে নেমেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং বিষয়টি তদারকিতে একজন বিশেষ শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়েছে।

মাঠের সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে নিজের তীব্র হতাশা প্রকাশ করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের তারকা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন বিশৃঙ্খলা তিনি কোনোভাবেই প্রত্যাশা করেন না। অথচ ফাইনাল শুরুর আগের দিনগুলোতেও তিনি তাদের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন এবং তাদের একজন দক্ষ কোচ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও প্রতিপক্ষের উসকানি ও আক্রমণের মুখে নিজেদের শান্ত রাখা স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসান তিনি। দে লা ফুয়েন্তে জানান, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও স্পেনের ছেলেরা যেভাবে ধীরস্থির থেকে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইতিমধ্যেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জড়িত থাকার কারণে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। তবে দে লা ফুয়েন্তের এসব সমালোচনামূলক বক্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

পরপর দুটি বড় শিরোপা জিতলেও এখনই ক্ষান্ত হতে রাজি নন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। তার পরবর্তী লক্ষ্য ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। নিজ দেশ স্পেনের যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া সেই আসরেও জাতীয় দলকে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ডাগআউটে থেকে নেতৃত্ব দিতে চান তিনি। দে লা ফুয়েন্তের মতে, নিজ দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলানো হবে যেকোনো কোচের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি।

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া মাঝমাঠের সেনাপতি রদ্রিকে নিয়েও কথা বলেন এই কোচ। আসরের শুরুর দিকে অনেকে রদ্রির ধীরগতির খেলার সমালোচনা করলেও দে লা ফুয়েন্তে তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি সাফ জানান, রদ্রির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মূলত ফুটবলীয় সূক্ষ্ম জ্ঞানকে অপমান করার শামিল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন উল্লেখ করে কোচ বলেন, শতভাগ ফিট না থাকা রদ্রিও বিশ্বের যেকোনো সেরা খেলোয়াড়ের চেয়ে মাঠে অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

ইত্তেফাক/এএম