বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করার উপার্জন হালাল নাকি হারাম—এমন একটি বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের স্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী যে বস্তু পান করা, খাওয়া বা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, সেটির ব্যবসা বা বেচাকেনাও বৈধ নয়।
সম্প্রতি অনুসারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই মন্তব্য করেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, কোনো দোকানদার যদি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মানুরাগী হন বা নিজে ধূমপান না-ও করেন, তাহলেও বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় হালাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দোকানদার নিজে হয়তো লম্বা দাড়িওয়ালা, নিয়মিত নামাজি কিংবা হাজি হতে পারেন—নিজে হয়তো কখনো বিড়ি-সিগারেট ছোঁেন না, তার পরিবারের কেউও খায় না; কিন্তু তিনি যদি নিজের দোকানে এসব পণ্য রেখে বিক্রি করেন, তবে সেই নির্দিষ্ট বেচাকেনা থেকে অর্জিত আয় হালাল হবে না।’
ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আরও ভেঙে ব্যাখ্যা করেন এই ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি জানান, একটি জেনারেল স্টোর বা দোকানে যদি হালাল ও হারাম—উভয় ধরনের পণ্য বিক্রি হয়, তবে পুরো দোকানের সব আয় একসাথে হারাম হয়ে যাবে না।
তার মতে, দোকানটির যেসব পণ্যের বেচাকেনা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ, কেবল সেসব পণ্য থেকে পাওয়া লাভটুকুই হারাম বলে গণ্য হবে। অন্যদিকে একই দোকান থেকে বিক্রি হওয়া চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বৈধ পণ্যের আয় পুরোপুরি হালাল থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু পণ্য হালাল হলেই চলবে না, বিক্রির প্রক্রিয়ায় প্রতারণা বা ভেজাল থাকলে সেই বৈধ পণ্যের আয়ও হারাম হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ভালো মানের দেশি ডালের সাথে কম দামি বা নিম্নমানের ডাল মিশিয়ে আসল পণ্যের দামে বিক্রি করা স্পষ্ট প্রতারণা। আর এ জাতীয় অসদুপায়ে অর্জিত লাভ কখনোই বৈধ হতে পারে না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামে কেবল পণ্যের ধরন নয়, ব্যবসার পদ্ধতি ও সততাও উপার্জনের বৈধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

