দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে উত্তেজনা, যাত্রীবাহী ট্রেন রেখে পালিয়েছে সব স্টাফ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৪

কুষ্টিয়ায় ট্রেনের যাত্রী বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে গার্ড মামুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা দুই ঘণ্টা ধরে ট্রেন আটকে রাখে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের প্লাটফর্মে। এতে ট্রেনটির যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তোপের মুখে ট্রেনের সব স্টাফ পালিয়ে যান।

পরে প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা এসে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ট্রেনটি মুক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন- আব্দুর রহিম (৬০) ও ছেলে শফিউল আওয়াল সুমন (৪০)। আহতরা  চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা।

রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে এসে পৌঁছে। এ সময় ট্রেনের ধাপ থেকে বেশ নিচু প্লাটফর্ম থেকে ট্রেনের বগিতে উঠার চেষ্টা করেন যাত্রী আব্দুর রহিম, তার স্ত্রী ও ছেলে শফিউল। কিন্তু তারা টিকিটে উল্লেখিত নির্ধারিত বগিতে উঠতে না পেরে তড়িঘড়ি এসি বগিতে উঠেন। এসময় ট্রেনের গার্ড মামুন এসি টিকিট ছাড়াই ওই বগিতে ওঠায় তাদের উপর চড়াও হন। এনিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে রেলওয়ের গার্ড মামুন চরম উত্তেজিত উঠেন এবং একটি ধারালো ছুরি এনে রহিম ও তার ছেলে শফিউলকে ছুরিকাঘাত করেন।

পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের দুজনের দুই হাতে কয়েকটি সেলাই দেওয়ার পর চিকিৎসা-পত্রসহ জরুরি বিভাগ থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আরএমও ডা. ইকবাল হাসান।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা সুন্দরবন এক্সপ্রেস আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে ট্রেনের লোকোমাস্টার ও পরিচালক পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আহত শফিউল আওয়াল সুমন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেন থামার পর অসুস্থ মা ও বাবাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠতে গেলে একজন স্টাফ আমাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আমার মাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। এ নিয়ে ট্রেনের বগির ভেতরে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই স্টাফ আমাকে ও আমার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় ঠেকাতে গেলে আমাদের হাতেও আঘাত লাগে। অভিযুক্ত ওই স্টাফের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় বলে জানতে পেরেছি।

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ ইতি খাতুন অভিযুক্ত স্টাফের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তের নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি ট্রেনের কন্ডাক্টর গার্ড হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে ট্রেনের বগির দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবীর হোসেন মাতুব্বর জানান, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ট্রেনটি স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু এই ঘটনায় থানায় কেউ মামলা করে নি। এছাড়া পোড়াদহ রেলওয়ে থানায়ও ভুক্তভোগীদের কেউ মামলা করেননি বলে পুলিশ জানায়। 

ইত্তেফাক/এপি