বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে অর্থ পাচার বন্ধ করতে চায় সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫

সরকার দেশে একটি বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য দরকার অর্থ পাচার বন্ধ করা। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গত ১৬ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ পাচার বন্ধ হলে বিনিয়োগের একটা চাপ তৈরি হবে। পুঁজি অলস বসে থাকবে না।’

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে ‘ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর এমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় এ কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য হিউম্যান ক্যাপিটাল তৈরি করা জরুরি। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো একই যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আমাদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীলতা দেখাচ্ছে। সরকার দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য শিক্ষা ও উৎপাদন খাতের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি বাড়ানোর দায়িত্ব ইন্ডাস্ট্রির।

জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণ করেছে জানিয়ে সাকি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। আমরা দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যেই পাঁচটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস (যেমন সোলার) থেকে আসার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সোলার প্রকল্পের জন্য জমি, ঋণ এবং ট্যাক্স সুবিধা দিয়ে প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার ২ দিনে লাইসেন্স প্রদান, ৭ দিনের মধ্যে ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করার একটা ব্যবস্থা দাঁড় করাচ্ছে বলে জানান জোনায়েদ সাকি। তিনি তথ্য দেন, গার্মেন্টস, লজিস্টিকস ও লেদারের পাশাপাশি আইসিটি, ইলেকট্রনিকস, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো নতুন ৮-১০টি বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূলত সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উৎপাদনশীলতা কীভাবে আমাদের অর্থনীতির প্রধান বিষয় করা যায়, সরকারের সেটা ভাবা উচিত।’

দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, ‘আমাদের নীতিমালার ঘাটতি আছে। পুরো সিস্টেমের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।’

ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, নীতিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্যোক্তারা প্রেরণা পান না।

নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, একটা ব্যবসা শুরু করতে হলে ৫০টি সরকারি সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন, ছাড়পত্র এসবের প্রয়োজন হয়। আগের সরকারগুলো চেষ্টা করেছে ওয়ান–স্টপ সমাধান দেওয়ার। কিন্তু সেটা হয়নি। তিনি বলেন, ব্যবসা–বাণিজ্যের পথ নিখুঁত করতে হলে সরকারকে উদ্যোক্তাদের এ সংকটগুলো সমাধান করতে হবে।

অ্যাগ্রো কোম্পানি আইফারমারের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাকামে মাহমুদ বলেন, ব্যবসা–বাণিজ্যে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অনেকগুলো বাধার মুখে পড়েন উদ্যোক্তারা। ফলে শুরুর যে প্রেরণা সেটা আর থাকে না। লালফিতার দৌরাত্ম্যে সময় চলে যায়। সৃজনশীল হওয়ার সময় পান না উদ্যোক্তারা।

ইত্তেফাক/এমএস