ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া: প্রেসিডেন্ট শারা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এই লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দামেস্ক। বেশ কয়েকটি দেশ এতে মধ্যস্থতা করছে। 

রোববার (২৬ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। শারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তি ভবিষ্যতে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ হতে পারে।

তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, এ ধরনের কোনও চুক্তি হলেও অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকারের বিষয়ে কোনও আপস হবে না। এই মালভূমি ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েল অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ সিরিয়ায় বিমান ও স্থল হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এই অব্যাহত অভিযানের মধ্যে দামেস্কের নমনীয় কূটনৈতিক অবস্থান সামনে এল।

শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে। তারা সেখানে বেশ কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়। এরপর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।

সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। এ নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে শারা স্পষ্ট জানান, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। অবশ্য লেবাননের সংকট কাটাতে নিয়মিত আলোচনা চলছে। দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে আলোচনা চালাচ্ছে দামেস্ক। শারা সতর্ক করে বলেন, লেবাননে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। অস্ত্র রাখার ওপর বিধিনিষেধ এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শারা দাবি করেন, লেবাননে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতে। যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের থাকা উচিত। এ ছাড়া প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও সিরিয়ার সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে শারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই যুদ্ধ যেন আর ছড়িয়ে না পড়ে, সেটাই তার চাওয়া। সংঘাত ছড়ালে বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার একটি আঞ্চলিক সমাধানের পক্ষে। এই সমাধান উত্তেজনা কমাবে এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।

 
ইত্তেফাক/এমএস