দেশে ফিরতে চান শ্রীলঙ্কান সেই বাবা-ছেলে, আপাতত ঢাকায় পাঠানোর চেষ্টা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০৪

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলের পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কান দুই জেলেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আদালতের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চলমান। বিষয়টি শ্রীলঙ্কান দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত। জানেন জেলেদের পরিবারও- এমনটি জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি নিয়ন্ত্রণাধীন আবদুস সুলতান।

সোমবার (২৭ জুলাই) ওসি আবদুস সুলতান বলেন, উদ্ধার শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে দুই জেলে এখনও থানা হেফাজতে আছেন। আদালতের আদেশে তাদের মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন মিরপুর-১ এলাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় একটি শ্রীলঙ্কার ড্যানিশ বোট থেকে উদ্ধার করে গত শুক্রবার তাদের উপকূলে নিয়ে আসেন মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা। ভাসমান ট্রলারে তারা টানা এক মাসের বেশি সময় সাগরে ছিলেন। সম্পর্কে বাবা-ছেলে দুই জেলে প্রায় ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলে জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া এস এইচ চামিন্দা ও তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং-দের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোড এলাকায়।

সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মহেশখালী কুতুবজোমের জিয়াউর রহমান নামের এক জেলের নজরে পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ট্রলারটি। এরপর ওই ট্রলার থেকে দুই জেলেকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকেই শ্রীলঙ্কার ওই দুই জেলে মহেশখালী কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ও ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই জেলে ইশারায় তাদের পরিচয় দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দ্রুত তারা দেশে ফিরতে চান। সঙ্গে নিজেদের নৌকাটিও নিতে চান।

তাদের উদ্ধারকারী ট্রলার মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, দুই শ্রীলঙ্কান বারবার দেশে ফিরে যাবার আকুতি করছেন। নৌকাটিও তাদের সাথে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু মহেশখালী থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এ ছোট্ট নৌকায় এত দূর যাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাতে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩৬ দিন আগে চারজন জেলে একটি ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে যান। বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে তা ভেসে আন্দামান সাগরের দিকে চলে যায়। তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় অন্য দুই জেলে দেশের উপকূলে ফিরে যান। তবে নিজেদের ট্রলার হওয়ায় বাবা-ছেলে এতেই থেকে যান। এর সাত-আট দিন পর মিয়ানমারের কিছু লোক তাঁদের ট্রলারে উঠে দুরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

একপর্যায়ে ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলে এসে পৌঁছায়। যাত্রা শুরুর সাত দিন পরই তাদের মজুত খাবার শেষ হয়ে যায়। এরপর টানা ২৯ দিন ধরে তারা বড়শির টোপ হিসেবে রাখা খাবার ও সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

উদ্ধারকারী ট্রলার মাঝি জিয়াউর রহমান বলেন, গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় বুধবার রাতে ভাসমান ট্রলারটি তারা দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন, ট্রলারে দুজন মানুষ পড়ে আছেন এবং একজনের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তারা করজোড়ে বাঁচানোর আকুতি জানান। মানবিক কারণে তাদের নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং অচল ট্রলারটি রশি দিয়ে বেঁধে গত শুক্রবার রাতে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসা হয়।

ইত্তেফাক/এপি