এভাবে চললে সবার আগে বাংলাদেশ হবে না, সবার আগে হবে বিএনপি: আখতার

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩

ক্ষমতায় এসে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি ভুলে বিভিন্ন সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসাচ্ছে বিএনপি। এভাবে চলতে থাকলে সবার আগে বাংলাদেশ হবে না, সবার আগে হবে বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা পুরোনো সেতু এলাকায় জেলা এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন দলের কঠোর সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ লোক নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে ১২টি সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের বসানো হয়েছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়ভাবে দখলের পাঁয়তারা চলছে। আগামী জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কারচুপির উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনেও একজন দলীয় কর্মীকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সত্যিকার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, এই রায় কার্যকর হলে দেশে নতুন কাঠামোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত হবে। তবে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়ন করতে চাইছে না।

এ সময় বিগত শেখ হাসিনা সরকারের জুলুম, আয়নাঘর এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চুয়াডাঙ্গার শাহরিয়ার শুভসহ অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশেও বৈষম্য চলছে।

দেশে তীব্র কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের মাত্র ৪০-৪৫ দিনের একটি অস্থায়ী কাজের জন্য একটি পদের বিপরীতে ২০ জনের আবেদনের বিষয়টিকে তিনি দেশের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দলীয়করণের বদলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এনসিপি সারা দেশে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নেবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিল, বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিও একই কায়দায় নীলনকশা তৈরি করছে। জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদেরই এখন জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও বিএনপি তা হতে দেবে না। বসুন্ধরার মতো বিভিন্ন বড় মিডিয়া গ্রুপ সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া এক বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের বদলে মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সভাপতি খাজা আমিরুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, নারীশক্তির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান।

ইত্তেফাক/এনএন