ডিবি পরিচয়ে সোয়া ৪ লাখ টাকা ছিনতাই, মূল হোতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৪:২৩

পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশ পরিচয়ে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকার মধ্যে টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. আকবর খান (৩০)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা মধ্যপাড়া এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় দায়ের করা মামলার (নম্বর-৩৯, ২৬ জুলাই ২০২৬) তদন্তের ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার মূল অভিযুক্ত আকবর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট চরপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহিন আলী গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় ছয় চাকার একটি ট্রাকে মাছ নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মাছের আড়তের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী আনিছুর রহমান (২২)।

পরদিন মাছ বিক্রি শেষে নগদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী চাঁদ আলীর মোড়ে পৌঁছান তারা। পথে ঈশ্বরদী-দাশুড়িয়া সড়কের হারুখালী এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তার পথরোধ করে। ওই দুই ব্যক্তি ট্রাকে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে মাছ ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে মাছ বিক্রির টাকা থাকা ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে তল্লাশি করা হবে বলে জানান তারা। পরে আনিছুর রহমানকে টাকার ব্যাগসহ মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে শাহিন আলী রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কাউকে আনা হয়নি। কিছুক্ষণ পর আনিছুর রহমান অপরিচিত এক ভ্যানচালকের মোবাইল ফোন থেকে শাহিনকে জানান, হারুখালী মাঠসংলগ্ন রেশম বাগান এলাকায় তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তারা দাশুড়িয়ার দিকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে মূল অভিযুক্ত আকবর খানকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া টাকার একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস