টেস্ট ক্রিকেটে ২১১ রানের লক্ষ্য আহামরি কিছু নয়। হাতে যখন পুরো একটা দিনেরও বেশি সময় বাকি, তখন এই রান হেসেখেলেই তাড়া করার কথা। কিন্তু দলটির নাম যখন পাকিস্তান এবং তাদের গায়ে যখন জড়ানো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমা, তখন রোমাঞ্চকর কিছু ঘটবে না-তার গ্যারান্টি কে দেবে? তারুবায় পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টে ঠিক তেমন এক নাটকেরই দেখা মিলল। আর ম্যাচটিতে এমন অবিশ্বাস্য হারের পর সতীর্থদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বাবর আজম।
প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের লিড পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৮১ রানে। পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ২২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এই নিয়ে টেস্টে সপ্তমবার ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেছেন। তবে ২১১ রানের লক্ষ্যে নেমে ১২০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন বাবর। যিনি দীর্ঘ ৩ বছর পর টেস্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বাবরের পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে পেসার আব্বাসের ব্যাট থেকে। সব মিলিয়ে তিন ব্যাটার দুই অঙ্ক ছাড়িয়েছেন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন ১১ রান। ৯০ রানে হারের পর ব্যাটারদের ঘাড়ে দোষ চাপালেন বাবর। পাকিস্তান টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘ফল আমাদের হাতে ছিল না। তবে গত দুই দিনে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু আজ (গতকাল) ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা মোটেও প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমরা একের পর এক উইকেট হারিয়েছি। ব্যাটিং বিভাগ পুরোপুরি ব্যর্থ।’
তারুবায় সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতলে ৩৬ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারত পাকিস্তান। ১৯৯০ সালে করাচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে পাকিস্তান জিতেছিল ৮ উইকেটে। যা টেস্টে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। গতকাল চতুর্থ দিনে বাবরের দল যে ২১১ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল সেটা তাড়া করতে কমপক্ষে ৫ সেশন খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান ৯ উইকেটে ৭১ রানে পরিণত হয়।
ক্যারিবীয়দের জয় যখন সময়ের ব্যাপার, তখন অপেক্ষা বাড়ান বাবর আর আব্বাস। দশম উইকেটে ৭৩ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন তারা (বাবর-আব্বাস)। ৪১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আব্বাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সিলস। এই নিয়ে টেস্টে চতুর্থবারের মতো সিলস ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কি উইকেট বোলিংবান্ধব হয়ে উঠেছিল-বাবরকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অবশ্য একমত নন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘উইকেট ভালোই ছিল। আমরা জানতাম নতুন বলে কিছুটা মুভমেন্ট থাকবে। এখানে এমনটা স্বাভাবিক এবং আমরা সে জন্য প্রস্তুতও ছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় তারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) খুব ভালো বোলিং করেছে এবং কন্ডিশনকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। চতুর্থ দিনের দিকে বল কিছুটা নিচু হয়ে আসছিল এবং অনিয়মিত বাউন্স করছিল। আমরা কোনো জুটি গড়ে তুলতে পারিনি। এ কারণেই ম্যাচটি হেরেছি।’
প্রথম ইনিংসে শান মাসুদ ১০৯ রান করেছিলেন। যেটা তাঁর সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি। তখন তিনি ব্যাটিং করেছিলেন তিন নম্বরে। তবে তৃতীয় দিনে জেইডেন সিলসের বলে আঙুলের চোট পেলেন মাসুদ। যার ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ নম্বরে খেলেছেন মাসুদ। এবার তার ব্যাট থেকে মাত্র ৩ রান এসেছে। মাসুদের আঙুলের চোট দলকে ভুগিয়েছে বলে মনে করেন বাবর। পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা (মাসুদের আঙুলের চোট) আমাদের জন্য কষ্টদায়ক ছিল। কারণ, দুর্ভাগ্যবশত ওর আঙুলটা ভালো অবস্থায় নেই। এটা ভেঙে গেছে। আমরা তাই তার অভাবটা অবশ্যই অনুভব করেছি।’
প্রথম ইনিংসেও পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখা গেছে। ৩৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা গুটিয়ে যায় ২৮২ রানে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে করে ৩১১ রান। ৯০ রানে হেরে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের তলানিতে অবস্থান করছে পাকিস্তান। ৬.৬৭ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ৯ নম্বরে রয়েছে দলটি। আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতার হার ২২.৭৩ শতাংশ। শীর্ষ দুইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতার হার ৮৭.৫০ ও ৭৫ শতাংশ। পোর্ট অব স্পেনে ২ আগস্ট শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

