জিম্বাবুয়ের উত্তরাঞ্চলে কারিবা হ্রদের তীরে খননকাজ চালিয়ে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক গবেষক দল জানিয়েছে, এই আবিষ্কার দক্ষিণ আফ্রিকার ডাইনোসরদের বিবর্তন ও বৈচিত্র্য নিয়ে আগের ধারণাগুলোকে বদলে দিচ্ছে।
নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস। ২০১৮ সালে পাওয়া একটি কঙ্কালের ভিত্তিতে এটি শনাক্ত করা হয়। জিম্বাবুয়েতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া এটি পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি।
গবেষকরা বলছেন, প্রায় ২১ কোটি বছর আগে লেট ট্রায়াসিক যুগে এই ডাইনোসর পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত। তখন ডাইনোসররা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল, যদিও তখনও তারা স্থলভাগের প্রধান প্রাণী হয়ে ওঠেনি।
পরবর্তী যুগের বিশাল লম্বা গলার ডাইনোসরগুলোর তুলনায় মুসাঙ্গো ছিল অনেক ছোট ও হালকা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার মিটার এবং ওজন অনুমান করা হয়েছে ২২২ কেজি।
স্থানীয় শোনা ভাষায় ‘মুসাঙ্গো’ মানে ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী। সেই শব্দ থেকেই নামটি নেওয়া হয়েছে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক পল ব্যারেট বলেন, এতদিন ধরে মনে করা হতো দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে ডাইনোসররা প্রায় একই রকম ছিল। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, ওই অঞ্চল আসলে আলাদা আলাদা বাস্তুতন্ত্রে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি জায়গায় ভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর বাস করত।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যা পাওয়া গেছে, তা সম্ভবত বিশাল এক অজানা জগতের খুব ছোট্ট অংশ মাত্র।
গবেষণাটি জার্নাল অব সিস্টেম্যাটিক প্যালিওন্টোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। জিম্বাবুয়েতে একই সময়ের যেসব ডাইনোসর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম সম্পূর্ণ কঙ্কাল। মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের হাড় ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে।
গবেষকদের মতে, মৃত্যুর সময় মুসাঙ্গোর বয়স ছিল আনুমানিক আট বছর এবং তখন এটি প্রায় পূর্ণবয়স্ক হয়ে উঠেছিল। হাড়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, জীবিত থাকাকালীন এটি গুরুতর আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছিল।
মাথার খুলি এখনো পাওয়া যায়নি। তবে গবেষকরা ধারণা করছেন, এটি তৃণভোজী বা সর্বভুক ছিল এবং নদী ও জলধারার পাশের উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিজ্ঞানীরা আফ্রিকার সবচেয়ে প্রাচীন ডাইনোসরের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছিলেন। মবিরেসরাস রাথি নামের সেই প্রজাতিটি প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। এর উচ্চতা ছিল প্রায় এক মিটার এবং ওজন সর্বোচ্চ ৩০ কেজি।

