বিপদে পড়া মার্তিনেজকে উদ্ধার করে জ্যাকেট উপহার পেলেন ভক্ত

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪

জাতীয় দলের হয়ে দায়িত্ব পালনের পর নিজ শহর মার দেল প্লাতায় ছুটি কাটাচ্ছেন সাবেক বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তবে এই ছুটির মধ্যেই সিয়েরা দে লস পাদ্রেস এলাকায় কাদায় গাড়ি আটকে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। অপ্রত্যাশিতভাবে সেখানে লিওনার্দো আলবারাসিন নামের এক ভক্ত উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

জানা যায়, এক বন্ধুর আটকে পড়া গাড়ি টেনে তুলতে গিয়ে মার্তিনেজের নিজের পিকআপ ট্রাকটিও কাদায় আটকে যায়। বৃষ্টির কারণে ওই এলাকার রাস্তার অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। ঠিক সে সময় মোটরসাইকেলে করে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন লিওনার্দো আলবারাসিন ও তার ছেলে। মূলত মার্তিনেজকে একনজর দেখার উদ্দেশ্যেই তারা ওই এলাকায় ঘুরছিলেন। দূর থেকে প্রায় দুই মিটার লম্বা এক ব্যক্তিকে দেখে আলবারাসিনের ছেলে তাকে চিনে ফেলে।

প্রিয় তারকাকে দেখে আলবারাসিন কিছুটা দূর থেকে ‘দিবু, চ্যাম্পিয়ন’ বলে চিৎকার করেন। ডাক শুনেই পরিচিত হাসিতে সাড়া দেন মার্তিনেজ। এরপর তিনি ওই ভক্তকে পুরো পরিস্থিতি খুলে বলেন এবং দড়ির গিঁট খোলার জন্য একটি ছুরি আছে কি না, তা জানতে চান। আলবারাসিন দ্রুত কাদায় নেমে নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে দড়ির গিঁট খুলতে সাহায্য করেন এবং গাড়িটি কাদা থেকে টেনে তোলেন।

মার্তিনেজের অমায়িক আচরণের প্রশংসা করে আলবারাসিন জানান, বিশ্বতারকা হলেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও মানবিক। তাদের মধ্যে ফুটবল বা বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো কথা হয়নি, বরং মনে হচ্ছিল যেন পুরোনো কোনো বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছেন। যখন আলবারাসিন জানান যে তারা শুধু মার্তিনেজকে একনজর দেখার জন্যই বৃষ্টি উপেক্ষা করে বের হয়েছিলেন, তখন এই গোলরক্ষক তাদের বারবার ধন্যবাদ জানান। আলবারাসিনকে জড়িয়ে ধরে মার্তিনেজ বলেন, ভক্তরাই তাকে এই বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন।

প্রিয় তারকাকে দেখার আশায় বের হওয়ার সময় আলবারাসিন সঙ্গে করে কাতার বিশ্বকাপে কোলো মুয়ানির নেওয়া সেই বিখ্যাত শট ঠেকানোর একটি পোস্টার, কয়েকটি জার্সি ও মার্কার নিয়ে গিয়েছিলেন। মার্তিনেজ হাসিমুখে সব কটিতে অটোগ্রাফ দেন। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি আসে বিদায়বেলায়।

যাওয়ার আগে মার্তিনেজ হঠাৎ থেমে নিজের গায়ে থাকা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অফিশিয়াল জ্যাকেটটি খুলে ওই ভক্তকে উপহার দেন। প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন অপ্রত্যাশিত উপহার ও ভালোবাসা পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন আলবারাসিন।

ইত্তেফাক/এনএন