অনুশোচনা বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) তার রব থেকে বর্ণনা করেন, কোনো বান্দা একটি পাপ করে বলল, হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা একটি গুনাহ করে ফেলেছে, অতঃপর সে জেনেছে যে, তার একজন রব আছেন, তিনি গুনাহ মাফ করে দেন অথবা গুনাহের জন্য ধরবেন।

অতঃপর সে আবার গুনাহ করে বলল, হে আমার রব, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা একটি গুনাহ করেছে, অতঃপর সে জেনেছে যে, তার একজন রব আছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করে দেন অথবা গুনাহের কারণে তিনি ধরবেন। (আমার বান্দার এই ভয়ের কারণে) আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। তাই সে যা মন চায়, তাই করুক।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫০৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৯৮৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১০৩৭৯)

হাদিসের শিক্ষা ও বিধান

আল্লাহর অসীম ক্ষমাশীলতা: আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু ও অতি ক্ষমাশীল। বান্দা যখনই আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ মার্জনা করে দেন।

হতাশ না হওয়া: ভুলবশত বা শয়তানের প্ররোচনায় গুনাহ হয়ে গেলেও হতাশ হওয়া যাবে না, বরং দ্রুত তাওবা করতে হবে। প্রকৃত মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।

বারবার তাওবার সুযোগ: তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত। একই গুনাহ অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার হয়ে গেলেও বান্দা যদি লজ্জিত হয়ে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করেন।

আশা ও ভয়ের ভারসাম্য: গুনাহের কারণে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করা আবশ্যক। আল্লাহর রহমতের আশা এবং তাঁর শাস্তির ভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনযাপন করাই মুমিনের মূল বৈশিষ্ট্য।

সঠিক তাওবার শর্তাবলী: কেবল মুখে ‘ক্ষমা চাই’ বলাই তাওবার জন্য যথেষ্ট নয়; তাওবার মূল শর্ত হলো অন্তরে প্রকৃত অনুশোচনা থাকা এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।

পাপকে হালকা মনে না করা: এই হাদিস কোনোভাবেই পাপ করতে উৎসাহ দেয় না বা পাপকে বৈধ বানায় না। বরং এটি শেখায় যে, পাপ হয়ে গেলে কীভাবে দ্রুত অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হয়।

আন্তরিকতার মূল্যায়ন: আল্লাহ তাআলা বান্দার বাহ্যিক রূপের চেয়ে তার অন্তরের আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি দেখেন। বান্দার খাঁটি অনুশোচনাই তাকে আল্লাহর মাগফিরাত ও ক্ষমা লাভের যোগ্য করে তোলে।

ইত্তেফাক/এমএসআর