রাশিয়ার ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশের পর দেশটির ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা জোরদারে ন্যাটো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাতভর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অংশ। এতে শিশুসহ অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলোকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পোল্যান্ড জোটের এমন কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে অন্যতম, যেগুলো বারবার লক্ষ্যভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে, কারণ রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার পর পোল্যান্ডসহ ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি আকাশস্থ আগাম সতর্কীকরণ বিমান মোতায়েন করেছে।
তিনি বলেন, ন্যাটো তার ভূখণ্ড রক্ষায় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে পূর্বাঞ্চলীয় তারনাওয়া-কলোনিয়া গ্রামে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবু এটি ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধ তাদের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, পোল্যান্ড ও ন্যাটো তাদের আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনাটি রাশিয়ার আরও একটি বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের একটি বিপজ্জনক পরিণতি।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, একটি রুশ খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর, বিশেষ করে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
রোমানিয়া তার আকাশসীমায় বিপথগামী ড্রোনের বারবার অনুপ্রবেশের খবর দিয়েছে। সোমবার তিনটি ড্রোনের সর্বশেষ অনুপ্রবেশের পর বুখারেস্ট এ ধরনের বারবার আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
গত মে মাসে এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া রাশিয়া থেকে তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের খবর জানায়। এরপর এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে বিতর্কের জেরে রিগার সরকার ভেঙে পড়ে।
গত বছর পোল্যান্ড এ ধরনের হুমকির জবাবে তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। দেশটি জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিত শনাক্ত করা হচ্ছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ

